Events Calendar

June 2017
S M T W T F S
28 29 30 31 1 2 3
4 5 6 7 8 9 10
11 12 13 14 15 16 17
18 19 20 21 22 23 24
25 26 27 28 29 30 1
Thu Fri Sat

সজাগ (সমাজ ও জাতি গঠন)

সংগঠন পরিচিতি

প্রতিষ্ঠালগ্নের কথা:

ধামরাই উপজেলার শৈলান গ্রামের কয়েকজন উৎসাহী, সক্রিয় এবং দেশে-বিদেশে উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তির একান্ত প্রচেষ্টায় সজাগ প্রতিষ্ঠা লাভ করে। সজাগ-এর ইতিকথা বলতে হলে অবশ্যই উলেখ করা প্রয়োজন যে, শৈলান গ্রামের তারুণ্যে উদ্বেলিত একদল যুবক নিজেদের মৌলিক চাহিদা যেমন- শিক্ষা, সাংস্কৃতিক, ক্রীড়া, শারীরিক ও মানসিক উন্নয়নের লক্ষ্যে নিজেদের উদ্যোগে ১৯৭০ সনে “মৌসুমী ছাত্র সংঘ” নামে যুবসংঘ প্রতিষ্ঠা করেছিল। মহান মুক্তিযুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত ধ্বংসপ্রাপ্ত দেশটাকে গড়ার ব্রতকে সামনে রেখে এবং সমাজে বসবাসরত বিভিন্ন বয়স, শ্রেণী ও পেশার মানুষদের উন্নয়ন কার্যক্রমে অন্তর্ভূক্ত করার লক্ষ্যে উক্ত যুব সংঘের সদস্যগণ তাদের সংঘের নাম পরিবর্তন করে “মৌসুমী জনকল্যাণ সংঘ” নামকরণ করে। ১৯৭৩ সন থেকে সে সংঘ আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন কর্মকান্ড শুরু করে। সে সময়ে উক্ত সংঘের উদ্যোক্তাদের বেশীর ভাগই বয়সে তরুণ, উন্নয়নে অনভিজ্ঞ এবং শিক্ষানবিশ হওয়ার ফলে তাদের সে উদ্যোগ তেমন সফলতা বয়ে আনতে পারেনি। এই না পারাটা অনেকের মনে গভীর রেখাপাত সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়। পরবর্তী সময়ে বর্তমান নেতৃত্বের উদ্যোগে ১৯৮৬ সনে মূলতঃ ধামরাই উপজেলার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখার জন্য উক্ত জনকল্যাণ সংঘকে সজাগ-এ রূপান্তরিত করা হয়।

বর্তমানে সজাগ নাগরিক সমাজের স্বেচ্ছাসেবী বেসরকারী উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান হিসেবে অত্র এলাকায় সুপ্রতিষ্ঠিত। সজাগ অবশ্যই ধর্ম ও দল নিরপেক্ষ, স্বেচ্ছাসেবী বেসরকারী উন্নয়ন সংগঠন। সজাগ সমাজে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ও ক্ষমতাহীনদের ক্ষমতায়নে নিয়োজিত। সজাগ-এর মূল লক্ষ্য হচ্ছে ন্যায়ভিত্তিক গণতান্ত্রিক ও আত্মনির্ভরশীল সমাজ গঠন করা যেখানে সততা, ন্যায়পরায়ণতা, সম্মান, স্বাধীনতা, সাম্য, স্বচ্ছতা, শান্তি, সমৃদ্ধি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে।

“সজাগ” একটি বাংলা শব্দ। একদিকে সজাগ-এর অর্থ হচ্ছে সচেতন বা জাগরণ, অপরদিকে তিনটি বাংলা শব্দের অর্থাৎ “সমাজ ও জাতি গঠন” এর সংক্ষিপ্তকরণ হচ্ছে “সজাগ”। এটা বলা যায় যে নামের মাঝেই “সজাগ” এর পরিচয় বিদ্যমান। অর্থাৎ পিছিয়ে পড়া দরিদ্র, অশিক্ষিত, সহায় সম্বলহীন জনগোষ্ঠীকে সংগঠিত, জাগরিত, অনুপ্রাণিত ও উদ্যোগী করাই সজাগ-এর মূল কাজ।

১৯৮৬ সনে ধামরাই উপজেলার সোমভাগ ইউনিয়নের মাত্র ৫টি গ্রামকে কেন্দ্র করে এবং ৩ জন স্বেচ্ছাসেবক নিয়ে সজাগ-এর অভিযাত্রা শুরু হয়। ধারাবাহিকভাবে সংস্থার কর্ম সফলতা ও গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পাওয়ায় সজাগ-এর কাজের ব্যাপ্তি ও কর্ম এলাকা সম্প্রসারণ হতে থাকে। ফলশ্রুতিতে সজাগ-এর বর্তমান কর্ম এলাকা সমগ্র ধামরাই উপজেলাসহ এর পার্শ্ববর্তী উপজেলাতেও সম্প্রসারণ করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে সজাগ ধামরাই উপজেলার ২২০টি গ্রামে এবং পার্শ্ববর্তী উপজেলা যেমন- সাভার, কালিয়াকৈর, মির্জাপুর, সাটুরিয়া ও সিংগাইর উপজেলার ১০৫টি গ্রামসহ মোট ৩২৫টি গ্রামের ৩১,৬৪০ পরিবারের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে এবং উন্নয়নে সরাসরি অবদান রাখছে। সজাগ বিগত দুই দশকেরও বেশী সময় ধরে মূলত ধামরাই উপজেলাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ের উন্নয়ন সংগঠন সমূহের জন্য অনুকরণীয় মডেল বিনির্মাণের প্রচেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে এনজিওদের কর্তৃক বাস্তবায়িত গতানুগতিক উন্নয়ন ধারায় সজাগ ইতোমধ্যেই কিছুটা ব্যতিক্রম ও নতুনত্ব আনতে সমর্থ হয়েছে। সজাগ-এর এই নতুনত্ব ও ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগসমূহ হচ্ছে

১)একটি সুনির্দিষ্ট কর্ম এলাকার মধ্যে সংগঠনের উন্নয়ন কর্মকান্ড সীমিত রাখা। ২) কর্মএলাকা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে পার্শ্ববর্তী গ্রাম বা সমাজকে অগ্রাধিকার দেয়া। ৩) কর্মএলাকা থেকে সকল পর্যায়ের যোগ্য কর্মী নিয়োগ করা। ৪) সমিতি গঠন কিংবা সংগঠন বিনির্মাণের ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষকে সমান গুরুত্ব দেয়া। ৫) মৌলিক উৎপাদনের খাত হিসেবে খাদ্য ও কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে কৃষি ও কৃষকদের উন্নয়নকে প্রাধান্য দেয়া। ৬) আর্থিক উন্নয়নে পুঁজি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ঋণ গ্রহণকারীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করে ঋণ কর্মসূচির Horizontal Expansion এর চেয়ে Vertical Expansion এর কর্মপদ্ধতি প্রয়োগ করা। ৭) অভীষ্ট জনগোষ্ঠীকে মর্যাদাবান নাগরিক হিসেবে গড়ার লক্ষ্যে তাদেরকে মানবাধিকার ও দায়িত্বশীল চিন্তা চেতনা ও আচার আচরণ বিষয়ে প্রশিক্ষিত করা।

সজাগ-এর অভীষ্ট লক্ষ্য (ভিশন) :
এমন একটি সমাজ প্রতিষ্ঠা করা যেখানে ন্যায়পরায়ণতা, স্বাধীনতা, সাম্য, শান্তি, সমৃদ্ধি এবং সহযোগিতামূলক গণতান্ত্রিক ভাব ও আচরণ সকলের মাঝে বিরাজমান হয়।

সজাগ-এর মূল উদ্দেশ্য (মিশন) :
সমাজে শান্তি, সমৃদ্ধি ও ন্যায় পরায়ণতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অজ্ঞতা, অন্যায্যতা, বৈষম্য, ক্ষুধা, দারিদ্র্য, নিরক্ষরতা, রুগ্নস্বাস্থ্য ও ক্ষমতাহীনতা দূর করা।

সজাগ-এর উন্নয়ন কৌশন :
সজাগ সুদৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে প্রাচুর্যের বিশ্বে দারিদ্র্য, ভোগ-বিলাসপূর্ণ বিশ্বে ক্ষুধা এবং সাম্য ও সম অধিকারের বিশ্বে ক্ষমতাহীনতা কোন অবস্থাতেই মেনে নেওয়া যায় না। তাই সজাগ তার কার্যক্রম ও কর্মসূচির মাধ্যমে দরিদ্রতা, নিরক্ষরতা, রুগ্নস্বাস্থ্য ও ক্ষমতাহীনতার বিরুদ্ধে সংগ্রামরত। সজাগ কোন প্রতিষ্ঠিত মতবাদ বা কৌশলকে সরাসরি অনুকরণ বা অনুসরণ করে না। নিজস্ব কর্মধারা তৈরীর লক্ষ্যে অতীতকে বিশেষণ করে বর্তমানকে সঙ্গে রেখে সুচিন্তিত পরিকল্পনার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ কর্মসূচি নির্ধারণই সজাগের কর্মকৌশল। সজাগ-এর মূল প্রচেষ্ঠা হচ্ছে উন্নয়নের এমন একটি সহায়ক পরিবেশ তৈরী করা যা সকলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে এবং স্বতঃস্ফুর্তভাবে অংশগ্রহণে অনুপ্রাণিত করে। সজাগ কোন অবস্থাতেই এমন কোন কর্মসূচি গ্রহণ কিংবা বাস্তবায়ন করবে না যেখানে জনগণের অংশগ্রহণ নেই। এখানে জনগণের অংশগ্রহণ বলতে কেবল কোন প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় জনগণের উপস্থিতি বা দৈহিক শ্রম প্রদানকেই বোঝায় না, অংশগ্রহণ বিষয়কে সামগ্রিক অর্থে ব্যবহার করতে হবে।

অংশগ্রহণ বলতে সজাগ মনে করে-
- সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া বা পলিসি তৈরিতে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা;
- পকিল্পনা তৈরি বা কৌশল নির্ধারণে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করা;
- উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, মনিটরিং ও মূল্যায়নে জন অংশগ্রহণের পরিবেশ বজায় রাখা।

উলেখিত বিষয়য়াদি বিবেচনাপূর্বক সজাগ-এর উন্নয়ন ধারণা হচ্ছে-
-সকল উন্নয়ন কর্মসূচির অভীষ্ট লক্ষ্য হতে হবে মানুষের মাঝে মানবতার জাগরণ ও সচেতনতা সৃষ্টি যা স্ব-শাসিত গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ তৈরিতে উদ্বুদ্ধ করবে;
- উন্নয়ন পরিকল্পনা ও কার্যক্রম হতে হবে সমন্বিত প্রচেষ্টা এবং জনগণের নিজস্ব উদ্যোগ;
- উন্নয়ন হতে হবে সমাজভিত্তিক, গ্রামকেন্দ্রিক এবং সংস্কারমূলক;
-বয়স, পেশা, সামাজিক ও আর্থিক অবস্থানের উপর ভিত্তি করে দলভিত্তিক সাংগঠনিক কাঠামো তৈরি করা যা তাদের দ্বারা নিয়ন্ত্রণ, ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনা করা সম্ভব হবে।
সজাগ-এর সাধারণ নীতিমালা:
সজাগের প্রতিটি সদস্য ও কর্মীবৃন্দ নিম্নবর্ণিত ৫টি নীতিমালায় বিশ্বাসী এবং বাস্তবায়নে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে কাজ করবে:
- ধর্ম ও দল নিরপেক্ষ, উন্নয়নমূলক বেসরকারী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন- যা সমাজের মঙ্গলে বিশেষ করে নিরীহ ও পিছিয়ে পড়া মানুষের অধিকার, ক্ষমতায়ন ও উনড়বয়নে অঙ্গীকারাবদ্ধভাবে নিয়োজিত থাকবে।
- সততা, পারস্পরিক সম্মানবোধ, আত্মনির্ভরশীলতা, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা হবে সংগঠনের মূল চালিকা শক্তি।
- সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে নৈতিক, সাংস্কৃতিক ও মানবিকতার বিকাশ সাধন।
- সংগঠনের আদর্শ ও উদ্দেশ্য অর্জনের লক্ষ্যে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করা এবং সংগঠনের অস্তিত্ব রক্ষায় যে কোন হুমকি মোকাবেলায় অঙ্গীকারাবদ্ধ হওয়া।
- সরকার পরিচালিত জাতীয় উন্নয়ন ও সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ ও সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান এবং অন্যান্য সরকারী ও বেসরকারী সংস্থার সঙ্গে মিলেমিশে কাজের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক আচার আচরণ, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা।

সজাগ-এর উদ্দেশ্য সমূহ:
- এমন এক সমাজের সৃষ্টি করা যেখানে নিয়মানুবর্তিতা, শান্তি, প্রগতি, সহযোগিতা ও পারস্পরিক সম্মানবোধ বহাল থাকে এবং মানবাধিকার, সুশাসন ও ন্যায্য সমাজ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- দরিদ্রতা, অজ্ঞতা ও অধিকারহীনতা দূরীকরণের লক্ষ্যে সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক সমস্যার প্রতি সকলের সচেতনতা বৃদ্ধি।
- সমন্বিত উন্নয়ন কর্মসূচির মাধ্যমে বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক দুরাবস্থা দূর করা।
- সমাজে মানুষের সময়, জ্ঞান, শক্তি ও সম্পদ সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে জনগণের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতি নিশ্চিত করা।
- শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে অভিষ্ট জনগোষ্ঠীকে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা।
- ক্ষমতায়ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গ্রামীণ জনগণকে নিষ্ক্রিয় প্রজা থেকে সক্রিয় নাগরিকে রূপান্তর।

Press Release / Notice

SOJAG Annual Report for 2015-16 has been published. To obtain a copy please email "info@sojag.org".

AR_2015-16-Edtd